কণ্ঠশীলন

দ্বানবতিতম আবর্তনে অনলাইনে আবেদন করুন ।

  সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য   সাম্প্রতিক অনুষ্ঠান   ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব
     
     
           
 
স্বল্পসাক্ষরতার অভিশাপ বাংলাদেশ থেকে অচিরে মোচন হবার নয়। অথচ সমগ্র গণমানুষকে বাংলা সাহিত্যের জীবনপ্রদায়ী নিষেকের ভিতরে না আনলে, এক মান বাংলা ভাষা ব্যবহারের ক্ষমতার মধ্যে না আনলে বাঙালির সাংস্কৃতিক বিকাশ তথা তাবৎ ঐহিক বিকাশ ও জাতি হিসেবেই বাঙালির অস্তিত্ব নিতান্ত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই সঙ্কট মোচনের এক পথ কথকথার এই দেশে, পুঁথি, জারী, কীর্তন, পালাগানের মধ্য দিয়ে জনশিক্ষা সম্প্রচারের এই দেশে আবৃত্তি, নাটক, কথকথা প্রভৃতির মধ্য দিয়ে সাহিত্যের বাচিক প্রসারের আন্দোলন গড়ে তোলা। এই হচ্ছে কণ্ঠশীলন প্রতিষ্ঠানের প্রথম এবং প্রধান উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যকে অবলম্বন করে যাঁরা সকলের কর্মে-বচনে জীবনে যাতে কোন ফাঁক কিংবা ফাঁকি না থাকে এবং তাঁরা যাতে সঙ্ঘবদ্ধ অনুশীলনের দ্বারা জীবনকে যথা-অবহিত বুদ্ধিদীপ্ত রসগ্রহণক্ষম জীবন ও জগৎ জিজ্ঞাসায় সদা আন্দোলিত, শিল্প ও সমাজে দায়বদ্ধ এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ সত্য ও সুন্দর নিরবচ্ছিন্ন অস্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন তার আয়োজন ও ব্যবস্থাপন গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানের সকল প্রয়াসের দ্বিতীয় লক্ষ্য। 'বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি-হ' এই থাকবে এ প্রতিষ্ঠানের সকল উদযোগের মূলে - যে বাঙালি মানবতাকে সকল জাতি ধর্ম স্বার্থ উন্নতি ও প্রতাপ-প্রভাবের উর্ধ্বে স্থান দেয়, যে বাঙালি বিশ্বমানবতার পথে প্রথম চরণপাতে স্বদেশীয় ভিন্ন সংস্কৃতির সকল মানুষকে আপন বলে জানে, তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐহিক সকল সত্যকে সশ্রদ্ধ বিনম্রতায় মানে।
 
সব্যসাচী লেখক, জীবন ঘনিষ্ঠ তথা মর্মস্পর্শী নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হকের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচারের দাবী নিয়ে সত্যনিষ্ঠ ও একাগ্র রচনার উপস্থাপন নিয়ে ১৮ই ফাল্গুন ১৪১৯/ ২রা মার্চ ২০১৩, শনিবার, সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমী’র জাতীয় নাট্যশালায় (মূল হলে) অনুষ্ঠিত হয়েছে কণ্ঠশীলন পরিবেশিত মঞ্চনাটক (৬) উত্তরবংশের ষষ্ঠ মঞ্চায়ন।
মূলত তিনটি চরিত্রকে ঘিরে এই নাটকটির কাহিনী আবর্তিত। নাট্যকার, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর আর্মিক্যাম্পে আটকে থাকা নিয়ে একটি নাটক রচনা করতে গিয়ে বারবার আটকে যাচ্ছেন এবং
তাঁর স্ত্রীর আত্মহত্যা। নাট্যকারের মেয়ে এখনও জানে না, কেন তার মা আত্মহত্যা করেছিলো। অন্যদিকে রয়েছে রাজনীতি করা নেতা, যে বারবার নাট্যকারকে তাগাদা দিতে থাকে একটি মুক্তিযুদ্ধের গণজাগরণমূলক নাটক লেখার জন্য।
এই নাটকে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক হানাদারদের নৃশংসতা এবং বর্তমান সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে খণ্ড খণ্ডভাবে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনা এবং ফ্ল্যাশব্যাকে মুক্তিযুদ্ধকালের ঘটনা দেখানো হয়েছে।
নির্দেশক গোলাম সারোয়ার জানান, ১৯৭১ সালে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করে, বাংলাদেশ স্বাধীন করে। সেই যুদ্ধের পর থেকে, সেই স্বাধীনতা থেকে এই বর্তমান পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশের সকল মানুষ আরেক যুদ্ধ করে চলেছে বাংলাদেশের ভিতরে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচারের দাবী নিয়ে। একই সঙ্গে কেন এই বিচার এতদিনেও হল না, কারা এই বিচার করতে ইচ্ছুক নন, কে এই দায়ভার গ্রহণ করবে... এমন আলোচনা চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। কালের পরিক্রমায় এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে এগিয়ে আসে নতুন প্রজন্ম। এমনই একটি বিষয়ের নখদর্পন চিত্র উপস্থাপন করেছেন নাট্যকার তাঁর উত্তরবংশে।
 

অদম্য প্রাণ-শক্তির এক মানুষ ওয়াহিদুল হক। রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চা এবং গবেষণা এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন। জীবনভর কাজ করেছেন নিজেকে আড়ালে রেখে। ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বিজাতীয় সংস্কৃতি বলে যখন নিষিদ্ধ করেছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত তখন বিক্ষুব্ধ বঙালিকে পথে নামিয়ে ছিলেন ওয়াহিদুল হক। রবীন্দ্র বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছিলেন পাকিস্তান সরকারকে। রবীন্দ্রনাথকে বাঙালির নিবিড় সান্নিধ্যে আনতে ১৯৬১তে গড়ে তোলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। দেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রবীন্দ্র প্রিয় বাঙালিদের একত্র করতে এবং শুদ্ধ রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চায় ব্রতী করে তুলতে গড়েন রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ। সাহিত্যের বাচিক চর্চাকে নিরক্ষর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠা করেন কণ্ঠশীলন। চর্যাপদ, ব্রজবুলী, সংস্কৃততে কৃতবিদ্য এই যোদ্ধা কেবল কণ্ঠশীলনেই সাত হাজার তরুণ-তরুণীকে দিয়েছেন বাংলা বর্ণমালার দীক্ষা। কণ্ঠশীলন-এর প্রাণপুরুষ অধ্যক্ষ ওয়াহিদুল হকের জন্মোৎব পালন উপলক্ষে প্রতি দুই বছর পরপর মার্চ মাসে ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব এর আয়োজন করে আসছে কণ্ঠশীলন ২০০৮ সাল থেকে। কণ্ঠশীলন এর শুরু থেকে যত শিক্ষার্থী আবর্তন সমাপন করে গিয়েছেন এবং সাহিত্য-সংস্কৃতিযুক্ত সকলকে নিয়ে তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন করা হয় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ, ঢাকা, অথবা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, সেগুনবাগিচা, ঢাকা।

           

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত: কণ্ঠশীলন
সার্বিক তত্ত্বাবধানে: কণ্ঠশীলন